দেশ টিভিতে আমার পরিকল্পনা এবং স্ক্রিপ্টে, ইরেশ জাকেরের উপস্থাপনায় দেশ ই গল্প নামে একটা ফান শো হয়।  অনেকেই অনুষ্টানটি টিভিতে দেখতে না পেরে আমার কাছে ভিডিও চেয়েছেন। কেউ বলেছেন ইউটিউবে আপ করতে। কিন্তু আমার কাছে এর কোন ভিডিও কপি নেই। তাই ভাবলাম ব্লগে কিছু স্ক্রিপ্ট দিয়ে দেই। আমার বন্ধুরা দেখতে না পারলেও পড়তে তো পারবেন।
দেশ  ই গল্প
কবিরাজ পর্ব

প্রান প্রিয় একমাত্র দর্শক, দেশ ই গল্প অনুষ্ঠানে আপনাকে আমন্ত্রন জানাই আমি ইরেশ জাকের।
প্রতি পর্বের মত আজও আমার সঙ্গে উপস্থিত আছেন একজন বিশেষ অতিথি।  উপমহাদেশের ওনার চেয়ে বড় কবিরাজ আর নেই। আজ আমরা কবিরাজির নানান অজানা বিষয় নিয়ে আলাপ করব।
দেশ ই গল্প অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে আলোচনায় যোগ দিতে চাইলে ফোন কর“ণ  ০০-৪২০-৬৯ নম্বরে। সমালোচনা করতে চাইলে যা খুশি আজে বাজে কথা লিখে এসএমএস কর“ন যে কোন নম্বরে।

ইরেশঃ আপনি তো একজন কবিরাজ?
অতিথিঃ জ্বি।
ইরেশঃ আপনি কবে থেকে এই পেশায় আছেন?
অতিথিঃ এটা তো পেশা না। মানে আমি পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু টাকা পাওয়া তো দুরের কথা, উল্টো কখনো আমাকেই টাকা দিতে হয়েছে।
ইরেশঃ কবিরাজ হওয়া তো সহজ কাজ না। যাই হোক, আপনি এক মহৎ পেশায় আছেন। এই পেশায় অর্থ প্রাপ্তি বড় কথা নয়, মানুষের সেবাই আসল কথা।
অতিথিঃ মানুষের সেবা?? হ্যা, আমি তো চেষ্টা করি, কিন্তু মানুষ আমাকে দেখলেই পালায়। সেবা করার সুজগ দেয় না।
ইরেশঃ মানে আপনি যে অসুধ দেন, সেগুলো খেতে কি খুব বেশি বাজে?
অতিথিঃ আমি ওষুধ দেই মানে?
ইরেশঃ মানে আপনার কবিরাজি ওষুধের কথা বলছি।
অতিথিঃ কবিরাজি ওষুধ কি জিনিস?
ইরেশঃ কি মুশকিল! সেটা তো আপনি ভাল বলতে পারেন। আপনি কি নিজেই ওষুধ বানান?
অতিথিঃ আমি ওষুধ বানাবো কেন?
ইরেশঃ মানে কি?
অতিথিঃ মানে তো আমিও বুঝতে পারছি না।
ইরেশঃ আপনি একজন  কবিরাজ, তাই তো?
অতিথিঃ হ্যা, কিন্তু কবিরাজ অষুধ বানাবে কেন?
ইরেশঃ তাহলে কি বানাবে? মাটির হাড়িপাতিল?
অতিথিঃ তা কেন বানাবে? কবিরাজ তো কবিতা লেখে। কবিদের রাজা, কবিরাজ।
ইরেশঃ কি!! আপনি একজন কবি?
অতিথিঃ হ্যা।
ইরেশঃ তাহলে আপনি কবিরাজ নন?
অতিথিঃ অবশ্যই আমি কবিরাজ। আমি কবিদের রাজা।
ইরেশঃ আপনি ওষুধ বানান না?
অতিথিঃ আরে নাহ। বললাম তো আমি কবিতা লেখি।
ইরেশঃ দেখুন তো আবস্থা, আমার কাছে ইন্ট্রো লেখা, আপনি একজন কবিরাজ। আজকের
আলোচনার বিষয় কবিরাজি চিকিৎসা।
অতিথিঃ আলোচনার বিষয় বদলে দিন। কবিরাজ বিষয়টা একই থাকল, শুধু ওষুধের বদলে কবিতা নিয়ে আলাপ করুন।
ইরেশঃ তাই করতে হবে। এতে অবশ্য কোন সমস্যা নেই। আলচনা করা নিয়ে কথা। কোন একভাবে অনুষ্ঠান শেষ করতে পারলেই হবে।
অতিথিঃ আমি কি এখন একটা কবিতা পড়ে শুনাব?
ইরেশঃ নানা সেটা কেন করবেন?
অতিথিঃ কেন আপনি না বললেন, কবিতা নিয়ে আলাপ করবেন?
ইরশঃ আহা, আমরা যদি আজ কবিরাজি ওষুধ নিয়ে আলাপ করতাম, তাহলে কি এখন ওষুধ খেয়ে দেখতাম নাকি?
অতিথিঃ  না তা করতাম না। কিন্তু একটা কবিতা শুনেই দেখেন আমি কেমন লিখি।
ইরেশঃ আমি আপনার কবিতা না শুনেই বুঝতে পেরেছি , আপনি একজন অসাধারণ প্রতিভা।
অতিথিঃ না শুনেই আন্দাজে আমার কবিতা ভাল বলা কি ঠিক হচ্ছে?
ইরেশঃ অবশ্যই ঠিক হচ্ছে। সব কিছু জেনে আমাদের লাভ কি? সরকার আমাদের বলে দিয়েছে, বাজারে গেলে চিনি পাব। কত দামে পাব তাও বলে দিয়েছে। তারপরো চিনির দেখা পাই না।
অতিথিঃ আসলে সরকার যখন কোন কিছুর দাম ঘোষনা করে তখন দোকানদাররা হাসে। তারা মনে মনে বলে, আসুক এই দামে কিনতে। খবর করে ছেড়ে দেব।
ইরেশঃ তাহলে আপনি আমাকে বলুন, সরকার ঘোষিত জিনিসপত্র কেনার উপায় কি?
অতিথিঃ উপায় একটাই। তা হলো, নিজেই একটা কাচাবাজের দোকান দেয়া। নিজের দোকান থেকে
নিজেই কিনবেন।
ইরেশঃ এটা কোন সমাধান হলো? ভাল কিছু বলেন। গঠনমুলক সমাধান দিন।
অতিথিঃ তাহলে আপনি বরং নিজেই নিজের খাদ্য উৎপাদন করুন।
ইরেশঃ আমি ধান, চাল, সবজি সব কিছু উৎপাদন করব?
অতিথিঃ হ্যা। তাহলে আর বেশি দামে কোন কিছু কিনতে হবে না।
ইরেশঃ ধান চাষের জন্য আমাকে জমি কিনতে হবে। জমি পাব কোঁথায়?
অতিথিঃ জিমি কিনতে হবে কেন? আপনি কত মেট্রিক টন চাল খান? আর কয় মন সবজি আপনার লাগে যে আলাদা জমিতে চাষ করতে হবে?
ইরেশঃ তাহলে কোথায় চাষ করব?
অতিথিঃ বাসার ছাদে। মানুষ ছাদে ফুলের গাছ লাগায় না? এপনি সেইভাবে ধানের গাছ, মুলার গাছ লাগাবেন।
ইরেশঃ আচ্ছা, ভাত এবং তরকারি না হয় ফুলের টবে লাগালাম, কিন্তু মাছ পাব কই?
অতিথিঃ একুরিয়ামে মাছ চাষ হয় না?
ইরেশঃ সে তো একদম ছোট্ট ছোট্ট মাছ।
অতিথিঃ ছোট্ট মাছে সমস্যা কি? আপনার কি তিমি মাছ খেতে হবে?
ইরেশঃ না তা লাগে না। ঠিক আছে। ভাত মাছ আমি আমার বাসার ছাদে উৎপাদন করব।
অতিথিঃ সমস্যা সমস্যা বলে চিৎকার না করে সমাধান বের করার চেষ্টা করা উচিৎ।
ইরেশঃ আচ্ছা, আমরা যদি নিজেরাই বাড়ির ছাদে সব কিছু উৎপাদন করা শুরু করি। তাহলে কৃষক কি করবে?
অতিথিঃ কৃষক যা খুশি তাই করবে। ইচ্ছে হলে আপনার মত অনুষ্ঠান করবে। তাতে আপনার কি?
আপনি রাতে কি খাবেন তাই ভাবুন।
ইরেশঃ জিনিসপত্রের যা দাম। আমি এখন আর রাতে খাই না। সারাদিন একবেলা খাই।
অতিথিঃ রাতে কি করেন?
ইরেশঃ খাওয়ার স্বপ্ন দেখি। তাতেই হয়ে যায়।
অতিথিঃ স্বপ্ন দেখতে থাকুন। কারন স্বপ্নই পারে আপনাকে বাস্তবের কাছে নিয়ে যেতে।
ইরেশঃ এই ডায়লগ কোথায় পেয়েছেন?
অতিথিঃ মেরে দিয়েছি।
ইরেশঃ মেরে দিয়েছেন মানে?
অতিথিঃ মানে, এই রকম অনেক বড় বড় কথা আমি মুখস্থ করেছি। যায়গামত ব্যবহার করি।
ইরেশঃ আমিও এখন আমার মুখস্ত এক ডায়লোগ ব্যবহার করব।
অতিথিঃ কি ডায়লোগ?
ইরেশঃ যাচ্ছি বিরতিতে। ফিরছি একটু পর।

বিরতিঃ

অতিথিঃ তাহলে আপনি আমার কবিতা শুনবেন না?
ইরেশঃ চেষ্টা করছি না শোনার। দেখি কি করা যায়।
অতিথিঃ কেন এমন বাজে চেষ্টা কেন করছেন? একটা কবিতা শুনলে কি হয়?
ইরেশঃ একটা কবিতা শুনলে কি হয় সেটা আমি একটু পরে বলছি।
অতিথিঃ কেন? একটু পরে কেন বলবেন? এখন বললে কি হয়?
ইরেশঃ এখন আমি একটা ফোন রিসিভ করব। দয়া করে চুপ থাকুন। হ্যালো দর্শক, কি বলতে চান
বলুন?
দর্শকঃ আমি অনেকক্ষণ ধরে আপনার অনুষ্ঠান দেখছি।
ইরেশঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
দর্শকঃ কিন্তু আপনার অনুষ্ঠানে শিক্ষামুলক কিছু পেলাম না। আপনার অনুষ্ঠানে শিক্ষামুলক কিছু নেই
কেন?
ইরেশঃ আপনি কি ধরনের শিক্ষা চান বলুন, আমরা আপনাকে শিক্ষা দিয়ে দিচ্ছি।
দর্শকঃ দেখুন, একটা অনুষ্ঠানে অবশ্যই শিক্ষামুলক কিছু থাকা দরকার। শধু বিনদনের কথা চিন্তা
করলে তো হবে না। আমাদের জ্ঞান চর্চাও তো দরকার।
ইরেশঃ আমাদের অনুষ্ঠানে ফোন করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কারন আপনার কাছ থেকে
আমরা অনুষ্ঠান বিষয়ক ভাল একটা শিক্ষা পেয়েছি।
অতিথিঃ সবাই টিভি দেখে শিখতে চায় কেন? এটা তো স্কুল না?
ইরেশঃ নাহ! ভাবছি, অনুষ্ঠানে একটা শিক্ষামুলক সেগমেন্ট রাখব।
অতিথিঃ কি হবে সেখানে?
ইরেশঃ কি আর হবে? আমি আর আমার অতিথি দুজনে মিলে কিছক্ষন ক খ গ পড়ব।
অতিথিঃ আইডিয়া মন্দ না। আমি কিন্তু ক খ সিরিয়ালি বলতে পারব না। ভুলে গেছি।
ইরেশঃ  অনেক টিভি অনুষ্ঠান নির্মাতা সহজে অনুষ্ঠান বানাতে চান। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান হতে হবে
শিক্ষামুলক। তারা কিভাবে অনুষ্ঠান বানানে পারে বলতে পারেন?
অতিথিঃ আপনি ক খ পড়ার যে আইডিয়া দিলেন সেভাবেই তো করা যায়। বিভিন্ন ক্লাস লেকচার
ভিডিও করে প্রচার করলেই হলো।
ইরেশঃ ভাল বলেছেন। কিন্তু আমার খুব গরম লাগছে। ইচ্ছে করছে কোন পুকুরে নেমে গলা পর্যন্ত
পানিতে ডুবে থাকি।
অতিথিঃ সমস্যা হচ্ছে ঢাকায় আপনি পুকুর পাবেন কোথায়?
ইরেশঃ পেলেও তো সমস্যা। দেখা যাবে আমি হয়তো পানিতে গলা ডুবিয়ে বসে আছি। একটু পরে
কোন ডেভলপার এসে সেই পুকুরে মাটি ফেলা শুরু করবে। আর আমি গলা পর্যন্ত মাটি চাপা হয়ে
বসে থাকব।
অতিথিঃ এটা ঠিকই বলেছেন। তাই ঢাকার কোন পুকুরে নামা ঠিক হবে না।
ইরেশঃ তাহলে কাছাকাছি কোথায় পুকুর আছে বলতে পারেন?
অতিথিঃ আমার বাসার সামনে ছোট একটা পুকুর আছে।
ইরেশঃ তাই নাকি??? চলুন যাই।
অতিথিঃ আরে নাহ। সেখানে খুব বেশি পানি নেই। মাত্র ছয় সাত ইঞ্চি পানি।
ইরেশঃ এত কম পানি? তাহলে সেটাকে পুকুর বলছেন কিভাবে?
অতিথিঃ মানে উপর থেকে দেখলে বেশি পানি মনে হয় কিন্তু ছয় সাত ইঞ্চির বেশি হবে না।
ইরেশঃ এটা আবার কেমন পুকুর? আপনি কিভাবে শিওর হচ্ছেন যে পানি ছয় সাত ইঞ্চি ?
অতিথিঃ আজ সকালেও একটা হাস ভাসতে দেখেছি। বেশি পানি হলে সেটা ডুবে যেত না?
ইরেশঃ হ্যা, তাই তো… আপনার পর্যবেক্ষন ক্ষমতা অসাধারণ।
অতিথিঃ আমি তো একজন কবি। কবিদের দৃষ্টি খুব তীক্ষè হতে হয়। সাধারন মানুষের চোখে যেটা না
ধরা পরে আমাদের চোখে সেটা ঠিকই ধরা পরে।
ইরেশঃ এমন আর কি কি জিনিস আপনার চোখে পরে যা আর কারো চোখে পরেনি?
অতিথিঃ এই তো দুদিন আগে আমার বাসায় চুরি হলো। পুলিশ এসে কত হদিস পাচ্ছে না, আমি
তাদের দেখিয়ে দিলাম যে জানালার উপর চোরের আক্সগুলের ছাপ আছে।
ইরেশঃ বাহ। কিন্তু আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে ওটা চোরেরই হাতের ছাপ?
অতিথিঃ আমি দেখেছিলাম।
ইরেশঃ কি দেখেছিলান?
অতিথিঃ আসলে রাতে যখন চুরি হয় তখন আমি জেগেই ছিলাম।
ইরেশঃ আপনি জেগে ছিলেন তবে কেন চোর ধরলেন না?
অতিথিঃ মানে হয়েছে কি, আমি চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলাম। তখন রাত তিনটা। হঠাত কানের কাছে
কে যেন ফিস ফিস করে বলল, কবিরাজ, গেজে আছেন?
ইরেশঃ লোকটা কে?
অতিথিঃ আমি চিনি না। এক চোখ হালকা একটু ফাক করে দেখলাম এক অচেনা লোক আমার বিছানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরেশঃ তা আপনি তাকে কিছু বললেন না কেন?
অতিথিঃ ভাবলাম এত রাতে অচেনা এক লোকের সাথে গল্প করতে যাওয়া ঠিক হবে না। তার চেয়ে
ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকি।
ইরেশঃ আপনি ভুমের ভান করার পর লোকটি কি করল?
অতিথিঃ সে তখন আমার ঘরের জিসিসপত্র সব তার ব্যাগে ভরা শুরু করল।
ইরেশঃ আপনি বাধা দিলেন না?
অতিথিঃ নাহ। কারন আমি তো ঘুমের ভান করেছিলাম। এখন যদি তাকে ধরতে যাই তাহলে আমার
ঘুমের ছলনা ধরা পরে যাবে।
ইরেশঃ অসাধারণ।
অতিথিঃ আহা। টাকা গেলে পাওয়া যাবে। কিন্তু সন্মান গেলে তো আর পাব না। চোর যদি দেখত আমি
ঘুম নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছি, তা হলে সবাই আমাকে মিথ্যাবাদি বলত না?
ইরেশঃ অবশ্যই বলত। কিন্তু আপনি যখন পুলিশকে চোরের আক্সগুলের ছাপ দেখালেন, তখন পুলিশ আপনাকে এই ব্যপারে কিছু বলেনি?
অতিথিঃ নাহ। সবাই তো জানে আমি কবিরাজ। আর কবিরাজের কর্মদক্ষতা নিয়ে সন্দেহ করাও
অপরাধ।
ইরেশঃ একসম ঠিক বলেছেন।
অতিথিঃ আচ্ছা বলুন তো কেন সব সময় চোর, চুরির স্থলে ফিঙ্গার প্রিন্ট রেখে যায়…
ইরেশঃ ওরা বেশির ভাগ সময় অশিক্ষিত হয় তাই আক্সগুলের ছাপ মানে টিপ সই রেখে যায়…শিক্ষিত হলে অবশ্যই সাইন করে যেত।
অতিথিঃ এটা হতে পারে।
ইরেশঃ আপনি কিছুক্ষন একা বসে থকতে পারবেন?
অতিথিঃ হ্যা পারব। কেন?
ইরেশঃ ভয় পাবেন না তো?
অতিথিঃ নাহ।
ইরেশঃ তা হলে এখন আমি একটু ঘুরে আসি। আপনি বসে থাকুন।
অতিথিঃ কোথায় যাচ্ছেন?
ইরেশঃ বিজ্ঞাপন বিরতিতে। দর্শক, আপনিও আমাদের কবিরাজের সাথে অপেক্ষা করুন। ফিরছি বিরতির পর।

বিরতিঃ
প্রান প্রিয় একমাত্র দর্শক, দেশ ই গল্প অনুষ্ঠানে আপনাকে আমন্ত্রন জানাই আমি ইরেশ জাকের।
প্রতি পর্বের মত আজও আমার সঙ্গে উস্থিত আছেন একজন বিশেষ অতিথি।  উপমহাদেশের ওনার চেয়ে বড় কবিরাজ আর নেই। আজ আমরা কবিরাজির নানন
অজানা বিষয় নিয়ে আলাপ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি আসলে সেই কবিরাজ নন। আমাদের
বুঝতে ভুল হয়েছে। উনি কবিদের রাজা কবিরাজ। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই তিনি স্বরচিত বেশ কিছু
কবিতা আমাকে পড়ে শুনাতে চাচ্ছেন, আমি নানান ফন্দি করে কেটে বের হয়ে যাচ্ছি। আশাকরি আর কোন সমস্যা হবে না।
দেশ ই গল্প অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে আলোচনায় যোগ দিতে চাইলে ফোন কর“ণ  ০০-৪২০-৬৯ নম্বরে। সমালোচনা করতে চাইলে যা খুশি আজে বাজে কথা লিখে এসএমএস কর“ন যে কোন নম্বরে।

অতিথিঃ একটা কবিতা শুনলে কি হয়?
ইরেশঃ কবিতা শুনলে আমার মাথা ঘোরে।
অতিথিঃ আপনি তো আমার কবিতা শোনেননি। একটা কবিতা শুনেই দেখুন।
ইরেশঃ আচ্ছা, চোর আপান্র কবিতা গুলো চুরি করেনি?
অতিথিঃ হ্যা। আমার সব কটি কবিতা একটা বাক্সে তালা দেয়া থাকে। চোর সেই বাক্সটাও নিয়ে
গিয়েছিল।
ইরেশঃ তাহলে আমাকে যে কবিতা শুনাতে চাচ্ছেন, এই কবিতা পাচ্ছেন কোথায়?
অতিথিঃ চোর পরের রাত্রেই আমার সেই বাক্সটা ফেরত দিয়ে যায়। বাক্সে আমার কবিতার সাথে
চোরের একটা চিঠিও ছিল।
ইরেশঃ সেখানে কি লেখা ছিল?
অতিথিঃ দাড়ান চিঠিটা আমার কাছে আছে। পড়ে শুনাবো?
ইরেশঃ হ্যা, কবিতা ছাড়া আর সব কিছুই পড়ে শুনাতে পারবেন।
অতিথিঃ চোর লিখেছে,
কবিরাজ সাহেব, আমি আপানার কবিতার বাক্সের তালা ভেঙ্গেছি। এই ব্যাপারে আমি খুবই অনুতপ্ত।
তালা ভেঙ্গেছি বলে আমার এখন তিব্র অনুশচনা হচ্ছে। কারন তালা না ভাংলে আপনার কবিতা আমার
পড়া হতো না। আপনার একটা কবিতার প্রথম দুই লাইন পড়ামাত্র আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। দুই ঘন্টা
পর যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আর একবার চেষ্টা করেছি। দাতে দাঁত চেপে প্রথম দশ লাইন পড়ার পর চোখে অন্ধকার দেখতে থাকি। সব কিছু কেমন যেন শুন্য শুন্য লাগছিল। দুপুরে  ভাত খেতে বসে শুধু পানি খেয়ে উঠে আসি। কোন ভাবেই কবিতা পড়ার কথা ভুলতে পারছি না।
আপনার বাক্স আপানার কাছে ফেরত দিয়ে গেলাম। দয়া করে বাক্সটি লুকিয়ে রাখবেন। আমার মত
কোন অভাগার হাতে যেন এই বাক্স না পরে। সবচেয়ে ভাল হয় এই কবিতার বাক্স কেন্দ্রীয় কারাগারে
দান করে দিলে। যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত কয়েদিদের এই বাক্স থেকে একটি কবিতা স¤পুর্ন শুনিয়ে সাজার
মেয়াদ তিন বছর কমিয়ে আনা যায়। এতে করে কয়েদির সাজাও হবে, আবার দ্রুত মুক্তি দিয়ে জেলখানার ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধিও করা যাবে। আমার কথাটা একটু ভেবে দেখবেন। আপনি জ্ঞানি মানুষ। আমার কথা নিশয়ই আপনি বুঝতে পেরেছেন। কারন কবিতা পড়ার পর থেকে আমি কোন কিছু গুছিয়ে বলতে পারি না। কথা এলোমেলো হয়ে যায়। ভাবছি কিছুদিন সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে বসে থাকব। সমস্যা হচ্ছে সমুদ্রের পারে চুরি করার বস্তুর বড় অভাব। শামুকের খোল ছাড়া আর কিছুই চুরি করার নেই। কি আর করা? বিধির বিধান। চুরি করে আপনার কবিতা পড়েছি। শাস্তি আমাকে পেতেই হবে।
ভাল থাকবেন। আপনার প্রতি আমার অনেক শুভ কামনা।
ইরেশঃ খুবই মর্মান্তিক। আপনি আমাকে এই কবিতা শুনাতে চাচ্ছেন?
অতিথিঃ হ্যা। কারন চোরর মন এমনিতেই উইক থাকে। আপনার মানুষিক শক্তি নিশ্চয় চোরের চেয়ে
বেশি।
ইরেশঃ আমার মানুষিক শক্তি কেমন আমি জানি না। কিন্তু তাই বলে আমি আপনার এই অমানুষিক
কবিতা কোন ভাবেই শুনব না।
অতিথিঃ এটা কেমন কথা?
ইরেশঃ এটাই আসল কথা। দাড়ান, আমার দর্শকের সাথে কথা  বলে আসি।
দর্শক, দেশ ই গল্প আপনাদেরই অনুষ্ঠান। তাই আপনাদের জীবনের যাবতীয় অবাস্তব সমস্যা আমা
দের ই মেইল কর“ন আমরা অবশ্যই আপনাদের সমস্যার বাস্তব সমাধান দেব। এছাড়া মজার
ভিডিও,ছবি,চিঠি,এসএমএস,গল্প,কবিতা উপন্যাস, বাজারের লিস্ট……… যা কিছু মজার তাই
আমাদের কাছে পাঠান।
এই অনুষ্ঠানের প্রতিটা ঘটনা ও বক্তব্য কাল্পনিক, জীবিত, মৃত অথবা অর্ধমৃত কারও সাথে এর কোন
মিল নেই। যদি কেউ কোন মিল খুঁজতে চান, তবে নিজ দায়িত্বে খুঁজবেন। ধন্যবাদ।
এত কিছু বলার পরেও আমাদের কথা বা আচরনে যদি কেঊ মনে কষ্ট পান, সেটাও নিজ দায়িত্বে পা
বেন।
দেশ ই গল্পে নিয়ে আপনাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া পেশ কর“ন, ফেস বুকে দেশ ই গল্প গ্রুপে।
আমরা সে দাবির কোনটাই পুরন করব না।
আর দেশি গল্প শুধু দেশ টিভিতেই হয়। আমাদের কোথাও কোন শাখা নেই। ওয়ান পিস মেড, কারিগর
ডেড!
অমি গেলাম। আপনার সাথে বসে থাকার রিক্স নিতে পারছি না।

Advertisements